জলবায়ুর অন্যতম উপাদান তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত। ফসল উৎপাদনে যেমন এ দুটি উপাদানের প্রভাব রয়েছে তেমনি রয়েছে গবাদিপশু-পাখি পালনের উপর। আমাদের দেশের জলবায়ু মূলত শীত ও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই ফসল নির্বাচনে আবহাওয়া ও জলবায়ুর অবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
উদ্দীপকের শেষোক্ত বক্তব্যটি হলো- ফসল নির্বাচনে আবহাওয়া ও জলবায়ুর অবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
কোনো অঞ্চলে কোন ধরনের ফসল জন্মাবে তা ঐ অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভর করে। অঞ্চল ও মৌসুমভেদে আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানে তারতম্য হয় বলে ভিন্ন ভিন্ন ফসল নির্বাচন করতে হয়। প্রথমত, সূর্যালোক অর্থাৎ দিবা দৈর্ঘ্য বিবেচনা করে ফসল নির্বাচন করতে হবে। উপযোগী আলোর কম বা বেশি হলে ফুল ফোটা ও সালোকসংশ্লেষণে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও দানা গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের ফসল শীতকালে এবং দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের ফসল গ্রীষ্মকালে ফলাতে হবে। আবার তাপমাত্রা কম নাকি বেশি তা বিবেচনা করে ফসল নির্বাচন করতে হবে। যেমন- আলু, গম, সরিষা ইত্যাদি কম তাপমাত্রা পছন্দ করে এবং পাট, আউশ ধান ইত্যাদি বেশি তাপমাত্রায় জন্মায়। ফসল নির্বাচনে আর্দ্রতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা বাতাসের জলীয়বাষ্প দ্বারা ফসল উৎপাদন বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়। ফসলের প্রাথমিক বৃদ্ধি পর্যায়ে উচ্চ জলীয় বাষ্প সহায়ক ভূমিকা রাখে। দানা গঠন পর্যায়ে নিম্ন জলীয় বাষ্প দানার সংকোচন ঘটাতে পারে। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতকালীন ফসলের জন্য উপযোগী আর্দ্রতা হচ্ছে যথাক্রমে ৭৮-৮৮%, ৮০-৯২% এবং ৭৫-৮৫%। আবার, ফসল উৎপাদনের জন্য বৃষ্টিপাতের সময় ও পরিমাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু কিছু ফসল খুব ভালো হয়। যেমন- জলি আমন, পাট ইত্যাদি। আবার অধিকাংশ ফসলের জন্য মধ্যম বৃষ্টিপাত দরকার। শুষ্ক মৌসুমে ডাল জাতীয় ফসল ভালো জন্মে। ফসল নির্বাচনে শিশির ও কুয়াশার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কেননা শিশির ও কুয়াশা বায়ুর আর্দ্রতা বাড়িয়ে ফসলে রোগ ও পোকার বিস্তার ঘটায়। ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
উপরের আলোচনা হতে বলা যায় যে, লাভজনক উৎপাদনের জন্য ফসল নির্বাচনে আবহাওয়া ও জলবায়ুর অবস্থা বিবেচনা করা অত্যাবশ্যক।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?